বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড়োসড়ো ধাক্কা: মালবাজার থেকে জেলাস্তর—সর্বত্রই চিকিৎসকের আকাল!

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড়োসড়ো ধাক্কা: মালবাজার থেকে জেলাস্তর—সর্বত্রই চিকিৎসকের আকাল!

​নিজস্ব প্রতিবেদন:

রাজ্যজুড়ে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে ঝাঁ চকচকে সুপার স্পেশালিটি ও মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হলেও, গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি বা বাস্তবের ছবিটা সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘোষণা থাকলেও মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডাক্তারবাবু’র অভাব। মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তিক ও জেলা হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকের আকাল এখন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

​মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট ও ক্ষোভ

​জলপাইগুড়ি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র হলো মালবাজার সুপার স্পেশালিটি (মহকুমা) হাসপাতাল। পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেঁষা ডুয়ার্স অঞ্চলের মালবাজার ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার লক্ষাধিক মানুষের ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এখানে জরুরি বিভাগ এবং বহির্বিভাগে (OPD) রোগীর অনুপাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর পরিবারগুলির অভিযোগ, অনেক সময়ই জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছালেও সময়মতো চিকিৎসক পাওয়া যায় না। মাঝেমধ্যে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি বা রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিষেবা ব্যাহত হয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে গুরুতর রোগীদের প্রায়শই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ বা শিলিগুড়ির বড় হাসপাতালে রেফার করতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। মাঝেমধ্যে এখানে চিকিৎসায় গাফিলতি বা পরিষেবার মান নিয়ে রোগীর পরিবারের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ছবিও সামনে এসেছে।

​বাংলার আর কোন কোন হাসপাতালে ডাক্তারের অভাব?

​মালবাজার একা নয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সামগ্রিক গ্রামীণ ও জেলা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেই চিকিৎসকের ঘাটতি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন রিপোর্ট ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, যেসব জায়গায় চিকিৎসকের অভাব সবচেয়ে বেশি প্রকট:

  • ​বালুরঘাট ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা: বালুরঘাট জেলা ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়মিতভাবেই চিকিৎসক সংকটের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের দলকেও সরেজমিন পরিদর্শনে যেতে হয়েছে।

  • ​উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও দূরবর্তী অঞ্চল: আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার পাহাড়ি ও রিমোট এলাকার গ্রামীণ হাসপাতাল ও ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে (BPHC) ডাক্তারদের নিয়মিত পোস্টিং এবং উপস্থিতি নিয়ে বরাবরই ঘাটতি রয়েছে।
  • ​জঙ্গলমহল ও দক্ষিণবঙ্গের প্রান্তিক জেলাগুলি: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূমের গ্রামীণ অঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসার (GDMO) এবং বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বড় রকমের শূন্যপদ রয়েছে। বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র কেবল ফার্মাসিস্ট বা নার্সদের ওপর ভর করে চলছে।

​রোগী সুরক্ষায় বড় প্রশ্নচিহ্ন

​স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে পরিকাঠামো বা ভবনের আধুনিকীকরণ করা হলেও রুট লেভেলে বা প্রান্তিক স্তরে স্থায়ী চিকিৎসকদের পোস্টিং না দিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলিতে যেখানে চব্বিশ ঘণ্টা সব বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন, সেখানে শূন্য পদের কারণে সাধারণ গরিব মানুষকে ভরসা করতে হয় বেসরকারি নার্সিংহোমের ওপর।

​এখন দেখার বিষয়, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এই সামগ্রিক চিকিৎসক সংকটের স্থায়ী সমাধানে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালগুলিতে দ্রুত নতুন চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।  

           Bengal TIMES News 

                 খবরের সাথে মানুষের পাশে।

Comments

Popular posts from this blog

লালপথে তেরঙ্গা, বাংলার উন্নয়নের অঙ্গীকার—৮০তম স্বাধীনতা দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক কর্মসূচি

২০ বিদ্রোহী TMC সাংসদকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস

📰 দিনের শেষে বাছাই দশ