"ক্ষমতার পালাবদল তো হলো, তবে ডুয়ার্সের সবুজ পাতার আড়ালে কান্নার রং আজও লাল কেন?"
"ক্ষমতার পালাবদল তো হলো, তবে ডুয়ার্সের সবুজ পাতার আড়ালে কান্নার রং আজও লাল কেন?"
চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, ন্যূনতম বেতন এবং অন্যান্য অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন চা বাগানে ব্যাপক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে:
১. লংভিউ চা বাগান (Longview Tea Estate - দার্জিলিং/কার্শিয়াং অঞ্চল):
দীর্ঘদিনের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), গ্র্যাচুইটি এবং পাওনা বেতনের দাবিতে এই বাগানের শ্রমিক ও অধিকার কর্মীরা তীব্র আন্দোলন ও লাগাতার অনশন চালিয়েছেন। এই বিক্ষোভের জেরে প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং চা বাগান মালিকের গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে আসে।
২. ডুয়ার্সের মেরিকো-পরিচালিত চা বাগানগুলি (যেমন তুলসিপাড়া, হান্টাপাড়া ইত্যাদি):
আলিপুরদুয়ার জেলা সংলগ্ন ডুয়ার্সের বেশ কিছু চা বাগানে দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা (বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা) কনকনে ঠান্ডার মধ্যে ডুয়ার্স কন্যা (জেলা কালেক্টরেট)-এর সামনে খোলা আকাশের নিচে টানা ধর্না ও বিক্ষোভ দেখান। এই তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে কোম্পানি বকেয়া মেটানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়।
৩. রায়পুর চা বাগান (জলপাইগুড়ি সদর ব্লক):
প্রায় এক দশক ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা এই রায়পুর চা বাগানে কাজ হারানো শ্রমিকদের ক্ষোভ ও বঞ্চনার চিত্র নতুন করে সামনে এসেছে। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দুর্দশার খবর পেয়ে শ্রম দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী স্বয়ং এই বন্ধ বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বাগান খোলার দাবি শোনেন।
৪. জয়েন্ট ফোরামের উদ্যোগে সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে গেট মিটিং ও বিক্ষোভ:
চা শিল্পের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নে গঠিত 'জয়েন্ট ফোরাম'-এর ডাকে তরাই, ডুয়ার্স ও পাহাড়ের বিভিন্ন চা বাগানের গেটে হাজার হাজার শ্রমিক যৌথভাবে বিক্ষোভ ও গেট মিটিং করেছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নূন্যতম মজুরির সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও বাস্তবায়ন, পিএফ-গ্র্যাচুইটির সঠিক বন্টন এবং বন্ধ ও পরিত্যক্ত চা বাগানগুলি দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা।
Bengal TIMES News
Comments
Post a Comment