হেলমেট পরেও রেহাই নেই! খড়দহ থানার সামনে নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতোর মালা—জনরোষ
নিজস্ব সংবাদদাতা -Bengal Times News -১৪ আগস্ট ২০২৬
আরজি কর-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটল খড়দহ থানার সামনে। শুক্রবার তাঁকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার জন্য পুলিশি নিরাপত্তায় থানার বাইরে বের করা হলে উত্তেজিত জনতার একাংশ তাঁর দিকে ডিম ও জুতোর মালা ছোড়ে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি আঁচ করে পুলিশ নির্মল ঘোষকে হেলমেট পরিয়ে থানার বাইরে নিয়ে আসে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে রিপোর্ট। পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি চড়, লাথি এবং জুতোর মালা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার সামনে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
কেন গ্রেফতার নির্মল ঘোষ?
২০২৪ সালের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর দেহ দ্রুত সৎকার নিয়ে নতুন করে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মল ঘোষকে ওড়িশার বালেশ্বর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে এনে খড়দহ থানায় রাখা হয় এবং শুক্রবার তাঁকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
এই মামলায় নির্মল ঘোষের পাশাপাশি সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। অন্য অভিযুক্ত সোমনাথ দে-কে এখনও খোঁজা হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানার সামনে বিক্ষোভ
নির্মল ঘোষকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় খড়দহ থানার বাইরে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ স্লোগান দেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য পুলিশকেও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে দেখা যায়।
এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডে মৃত চিকিৎসকের বাবা এদিন খড়দহ থানায় পৌঁছে শ্মশানঘাটে তাঁর মেয়ের দেহ সৎকারের সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য: নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি বর্তমানে তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।
BENGAL TIMES NEWS
খবরের সত্যতা যাচাই করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Comments
Post a Comment